জাত ও ধরন অনুযায়ী অর্থাৎ দেশি ষাঁড়, সংকর জাত, বয়স্ক গাভী, বকনা ইত্যাদি ভেদে গরুর মাংসের দাম আলাদাভাবে নির্ধারণের দাবিতে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার মো. মাহমুদুল হাসান নামে এক আইনজীবী ‘জনস্বার্থে’ বাণিজ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন বরাবর এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গরুর জাত ও ধরন অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে মাংসের দাম নির্ধারণে বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক ও আইনি নির্দেশনা জারি করার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বাজারে ব্রয়লার, সোনালী ও দেশি মুরগির দাম আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।
কিন্তু গরুর মাংসের ক্ষেত্রে এমন কোনো বিভাজন নেই। বর্তমানে দেশি ষাঁড়, সংকর জাতের গরু বা ফার্মের গরু, বয়স্ক গাভী এবং বকনা গরুর মাংস বেআইনি ও ইচ্ছামাফিকভাবে একই দামে বিক্রি হচ্ছে।
নোটিশে বলা হয়, এই অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে এক বিশাল প্রতারণা এবং অন্যায্য বাণিজ্য প্রথা। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা নিম্নমানের এবং অপেক্ষাকৃত শক্ত মাংসের, বিশেষ করে বয়স্ক গাভীর জন্য প্রিমিয়াম বা অতিরিক্ত দাম দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে এই সিন্ডিকেটের কারণে দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ খামারিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যেসব খামারিরা শ্রম ও সময় দিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে উন্নত মানের দেশি গরু পালন করেন, তারা ন্যায্য আর্থিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংকর জাতের গরুর খামারি এবং বয়স্ক গাভী বিক্রিকারী সিন্ডিকেটগুলো অযৌক্তিক মুনাফা লুটে নিয়ে একটি বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করছে।
নোটিশে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের এই নিষ্ক্রিয়তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর সরাসরি লঙ্ঘন।


