বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকার পরও মিলছে না যুক্তরাজ্যের বোডিং পাস

বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকার পরও মিলছে না যুক্তরাজ্যের বোডিং পাস
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন। যুক্তরাজ্যে কনস্ট্রাকশন ব্যবসা করেন। গত ২০ ডিসেম্বর স্ত্রী সন্তানকে যুক্তরাজ্যে রেখে দেশে আসেন। যুক্তরাজ্যে মেয়ের স্কুলের পরীক্ষা আগামী সপ্তাহে। ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান তিনি। দেশটির বৈধ ভিসা, নিশ্চিত টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও তাকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়নি। কোনো উপায় না পেয়ে বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসতে হয়েছে তাকে।

শুধু সালাহ উদ্দিন নয়। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০ জন যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত যাত্রী বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টার থেকে ফেরত আসতে হয়েছে। একই অবস্থা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বোর্ডিং পাসের সময় কম্পিউটারের স্কিনে ‘চেক ইন রেস্ট্রিকটেড, কন্ট্রাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’লেখা কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রীদের।

এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রবাস ফেরতরা। অনেকে অনিশ্চয়তার মধ্যেও পড়েছেন। বিশেষ করে যারা স্ত্রী-সন্তান রেখে দেশে এসেছেন তাদের চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ইস্যুটি বাংলাদেশের কোনো কারণে না। এটা যুক্তরাজ্যের বর্ডার কর্তৃপক্ষের। তবে বিষযটি সমাধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কাজ করছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীদের চেক-ইন করার সময় ‘চেক ইন রেস্ট্রিকটেড, কন্ট্রাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’বার্তা দেখাচ্ছে। এতে করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে। অথচ যাত্রীদের দাবি, তাদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ। এমনকি অনেকের যুক্তরাজ্যের ই-ভিসাও রয়েছে। সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, এই জটিলতার বড় কারণ যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ‘ডিজিটালাইজেশন’ বা ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় রূপান্তর। যুক্তরাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (যেমন বিআরপি কার্ড) বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা চালু করছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় মাইগ্রেট করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে আপডেট করেননি। ফলে এয়ারলাইনসের সিস্টেম পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে হোম অফিসের ডাটাবেসে যাচাই করতে গেলে ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা ‘এরর’দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া এয়ারলাইনসগুলো ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ সিস্টেম ব্যবহার করে। অনেক সময় যাত্রীর স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেও সার্ভার জটিলতায় কাউন্টারে তথ্য পৌঁছাতে দেরি হয় অথবা ভুল তথ্য দেখায়।

মৌলভীবাজারের বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘বছরে ৩-৪ বার দেশে আসি। কিন্তু কখনও এরকম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়নি। এখন আমি এক দেশে, স্ত্রী-সন্তান আরেক দেশে। এই অনিশ্চয়তা কাটবে কবে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইটে যেতে না পেরে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশনের সাপোর্ট টিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে এটা তাদের সমস্যা না। আমার ভিসাসহ সব কাগজপত্র বৈধ। এগুলো দেখিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। কোনো সমস্যা হলে বিমান কর্তৃপক্ষ ক্যারিয়ার সাপোর্ট হাবে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে সে দেশটির ইমিগ্রেশন।’

আরেক যাত্রী শফিকুর রহমান জানান, তিনি ও তার স্ত্রী একই ধরনের ভিসায় যুক্তরাজ্য যাচ্ছিলেন। গতকাল তাদের ফ্লাইট ছিল। কাউন্টারে তার স্ত্রীর বোর্ডিং পাস ইস্যু হলেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বোর্ডিং পাস আটকে দেওয়া হয়। টিকিট ‘নন-রিফান্ডেবল’ হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে একাই যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে তিনি দেশে থেকে যান। এতে তার টিকিটের পুরো টাকা নষ্ট হয়েছে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, ‘এটা সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। এটা ইউকে বর্ডার ফোর্সের একটি ব্যবসা।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সমাধান করবে।’ ইতোমধ্যে বিমান কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

হাফিজ আহমদ আরও বলেন, ‘এটাকে রেস্ট্রিকশন বলবো না আমি। এটা হয়তো তাদের বর্ডার ফোর্সের ব্যবসা হতে পারে। অথবা সিস্টেমের আপগ্রেডেশেনও হতে পারে। তবে, আপাতত ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad