দলের নারী কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, ইসিকে জামায়াত

দলের নারী কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, ইসিকে জামায়াত
সোমবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকা-১৫ আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অপদস্ত করার অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সোমবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনী কাজ করতে নারী কর্মীরা যখন মাঠে নামছেন, তখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের ওপর হামলা ও অপদস্ত করা হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব খুলতে বলা হচ্ছে। অনেকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। স্বাভাবিকভাবেই নারী ভোটাররা নারী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক যে নারীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন এবং ভোটের আয়োজনে ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি দলের পক্ষ থেকে তাদের নারী কর্মীদের ওপর মারাত্মক আচরণ করা হচ্ছে, যা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়েও অভিযোগ করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুবায়ের বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যখন নির্বাচনী কাজে বের হচ্ছেন, তখন স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটরাও তাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন। কাউকে জরিমানা করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে তিনি নির্বাচনী কাজ করতে পারেন না। অথচ একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তাহলে তিনি কেন ভোটকর্মী হতে পারবেন না—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হলে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি ব্যাখ্যা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু আইনি ব্যাখ্যার জটিলতার কারণে একজন শিক্ষকের সম্মানহানি হোক, এটি কেউই চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলের নির্দেশে নারী কর্মীদের দিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং দলীয়ভাবে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নারীদের অসাধারণ সমর্থন দেখা যাচ্ছে। গ্রাম থেকে শুরু করে সারা দেশে নারী ও বিশেষ করে তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সমর্থন রয়েছে। তাদের ধারণা, এই সমর্থনের কারণেই একটি বড় দল এমন আচরণ করছে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী দেওয়া হয়নি কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দলে ৪০ শতাংশ নারী কর্মী রয়েছে, যা অন্য দলে নেই। দলের সংস্কৃতিতে নিজ উদ্যোগে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই; মাঠ পর্যায় থেকে আসা প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে নারী প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad