সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তার হার বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন। পাশাপাশি, ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।
একই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন, যা আগে ছিল ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া, ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার টাকা বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার।
অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর পর্যায়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির উপকারভোগী সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ টাকা মাসিক বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, এ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবার মাসে ৩০ কেজি করে চাল কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে মোট ৬ মাস পেয়ে থাকে।
সভায় আরও জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগী করার সুপারিশ করা হয়েছে।


