রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন পেছানোর কারণ হিসেবে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’কে দায়ী করছে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে গঠিত নির্বাচন কমিশন।
সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ।
ক্যাম্পাসে দুদিন আগে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি ঘোষণার পর আন্দোলনরত শিক্ষক কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছিল তারা যেন রাকসু অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন।
‘কিন্তু শিক্ষক ও কর্মকর্ম-কর্মচারীরা এতটাই আহত হয়েছেন যে এ ঘটনার বিচার না হলে, ক্যাম্পাস স্থিতিশীল না হলে কোনোভাবেই নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে রাজি হননি,’ যোগ করেন তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ কমিশন বৈঠক করে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয় জানিয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও কাজে ছন্দপতন ঘটেছে। আমরা বাধাগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের প্রকিউরমেন্টে সমস্যা হয়েছে। আমাদের ভোটকেন্দ্রগুলো, ১৭টা কেন্দ্র স্থাপন করার ক্ষেত্রে যে শ্রেণিকক্ষ খোলা থাকার কথা, শিক্ষক থাকার কথা, কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা সেটি আমরা পাইনি।’
সোমবার মতবিনিময় সভায় প্রভোস্ট, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসারসহ সবাইকে ডাকা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানেও উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক ছিল না।
মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘যারা দুইদিন পর ইলেকশন কমিশনের অধীনে কাজ করবেন সেখানে উপস্থিতি আমরা খুবই হতাশাব্যঞ্জক দেখেছি। আপনারা জানেন যে আমাদের তিন শতাধিক শিক্ষক এই নির্বাচন কমিশনের কাজে অংশগ্রহণ করবেন। একটি নির্বাচন তোলার জন্য আমাদের যে জনবল দরকার, যে সমর্থন দরকার সেই সমর্থন আপাতত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান নেই।’
আর সে কারণেই নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতভাবে রাকসু নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একটি অনাকাঙক্ষিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পেছাতে বাধ্য হয়েছে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের তো আলাদা কোনো লোকবল নেই। ৩০০ শিক্ষক কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কিন্তু তারা যদি কাজ করার পরিবেশ না পান, তারা যদি হুমকির মুখে পড়েন, তারা যদি মনে করেন এখানে নিরাপত্তা সংকট আছে তাহলে তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন?’
এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গেও আলাপ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
নির্বাচন কমিশন রাকসু আয়োজনে আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বে থাকলে রাকসু নির্বাচন করে বিদায় নেব।’
যে ব্যক্তির কারণে নির্বাচনে এতবড় ছন্দপতন ঘটল তার প্রার্থীতা থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের নির্বাচনী আইনটি খুবই ছাত্রবান্ধব। যে বিষয়টি আপনি বলেছেন এটি অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে আমরা যখন আবার বসব নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা অবস্থায় বিধির বাইরে কাজ করেছেন আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’


