সমান হারে কর দেওয়ার পরও বৈষম্যমূলক নাগরিক সেবা পাওয়ার বাস্তবতা বদলের অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও নাগরিক সেবায় ন্যায্যতা পায়নি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশতেহারে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ভাঙাচোরা সড়ককে ঢাকা-৯ এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন জারা। এসব সমস্যা সমাধানে সংসদে “সেবা না দিলে বিল নয়” নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, গ্যাস না থাকলে বিল মওকুফ করতে হবে, এলপিজি বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং বর্ষা শুরুর আগেই ড্রেন ও খাল পরিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের জন্য একমাত্র বড় ভরসা মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে তীব্র জনবল ও সক্ষমতার সংকটে ভুগছে।
নির্বাচিত হলে তিনি হাসপাতালের জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেবেন।
পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা বছরব্যাপী লার্ভা নিধন ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং নারীদের চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলগামী সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিক্ষা খাতে ভর্তি বাণিজ্য ও এমপি কোটার বিরোধিতা করে তাসনিম জারা বলেন, মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড।
তিনি স্কুলগুলোতে আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অর্থনীতির বিষয়ে তিনি তরুণ উদ্যোক্তা ও কর্মজীবী মায়েদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্টার্ট-আপ তহবিল গঠন, কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির পক্ষে সংসদে ভূমিকা রাখবেন তিনি।
নিজেকে ‘অতিথি পাখি নন’ উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, তিনি এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, উন্মুক্ত অভিযোগ ড্যাশবোর্ড চালু এবং সরাসরি নাগরিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন।
ঢাকা-৯ এলাকার গ্যাস, পানি, নিরাপত্তা ও ন্যায্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ভোটারদের ‘ফুটবল’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


