রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উলামা জনতা ঐক্য পরিষদ ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের আশঙ্কায় প্রতিবাদ জানান তারা।
শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এলেও সরকার সেই রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় এখনো মূল হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া চরম ব্যর্থতার প্রমাণ বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীসহ একাধিক আলেমকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায়’ গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় উলামা জনতা ঐক্য পরিষদ ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের কিছু মূলধারার গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী ভূমিকা পালন করছে এবং স্বৈরাচারী শাসনকে সমর্থন দিয়েছে। তারা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সমালোচনা করে বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম আলেম সমাজকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে জনমত বিভ্রান্ত করছে।
সমাবেশে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনকে ‘কালো আইন’ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘এই আইন ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধী মত দমন করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আর জনগণের আত্মত্যাগই এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
আলেম সমাজের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ না হলে এবং বিচারহীনতা চলতে থাকলে দেশের সবস্তরের মানুষ আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।


