যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে আরও চার দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকা মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত ১৮ ডিসেম্বর এ মামলায় খাদিজাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মাজহারুল ইসলাম।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে রিমান্ড বাতিল চেয়ে বলেন, ‘তার কাছে রিমান্ডে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও আবার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এর কোনো যুক্তি নেই। তার দুটি সন্তান আছে। আমি তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চাচ্ছি।’
এদিন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তার রিমান্ডের স্বপক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল তারেক রহমান দেশে আসছেন। সামনে জাতীয় নির্বাচন। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে।’
এছাড়া এ মামলায় খাদিজার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। এজন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আদালতে আসামি খাদিজা ইয়াসমিন বিথী জানান, তিনি মামলার কোনো ঘটনা জানেন না। তার অভিযোগ, বাবা আইনি হেফাজতে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠানো অনুচিত। স্বাভাবিকভাবে কাজ করে সংসার চালান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছোট সন্তান রয়েছে, যাকে এখন প্রতিবেশীরা দেখাশোনা করছেন।’
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গত ১৯ এপ্রিল রাতে হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা মোড় গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে তাকে গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ এপ্রিল মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
পরে আরিফ সিকদারের মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এ মামলায় সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


