মোবাইল রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর কার্যকর হতে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে বৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানির শুল্কহার কমানো ও প্রবাসীদের ফোন আনার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়মের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সভাপতিত্বে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়য়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসির মধ্যকার সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসীরা দেশে ছুটি কাটাতে এলে ৬০ দিন পর্যন্ত স্মার্টফোন নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। ৬০ দিনের বেশি থাকলে সেক্ষেত্রে মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
যেসব প্রবাসীদের বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে, তারা ফ্রিতে মোট তিনটি ফোন সঙ্গে আনতে পারবেন । অর্থাৎ নিজের ব্যবহারের হ্যান্ডসেটের বাইরে আরও দুটি নতুন ফোন আনতে পারবেন। চতুর্থ ফোন আনতে গেলে তখন ট্যাক্স দিতে হবে। আর যাদের বিএমইটি কার্ড নেই তারা নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি ফোন ফ্রিতে আনতে পারবেন।
এক্ষেত্রে মোবাইল ক্রয়ের বৈধ কাগজটি নিজের সাথে রাখতে হবে।
কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চোরাচালানিরা সাধারণ প্রবাসীদের চাপাচাপি করে স্বর্ণ, দামি মোবাইল ফোন ইত্যাদির শুল্কহীন পাচারের চেষ্টা করে। তাদের অপচেষ্টা রুখতেই মোবাইল কেনার কাগজ সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
স্মার্টফোনের বৈধ আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম কমে আসবে।
বর্তমানে বৈধ পথে মোবাইল আমদানির শুল্ক প্রায় ৬১ শতাংশ। এটা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
আমদানি শুল্ক কমালেই বাংলাদেশের ১৩-১৪টি ফ্যাক্টরিতে উৎপাদনকৃত মোবাইলের শুল্ক ও ভ্যাট কমাতে হবে, তা না হলে কোম্পানিগুলোর বিদেশি বিনিয়োগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের শুল্ক কমানো এবং তা সমন্বয় নিয়ে বিটিআরসি এবং এনবিআর যৌথভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে একাধিকবার বসেছে এবং দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।
গ্রাহকের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেছে মন্ত্রণালয়।
১৬ ডিসেম্বরের আগে বাজারে অবৈধভাবে আমদানি করা স্টক ফোনগুলোর মধ্যে যেগুলোর বৈধ আইএমইআই নম্বর আছে সেগুলোর তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিয়ে হ্রাসকৃত শুল্কে সেগুলোকে বৈধ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তবে ক্লোন ফোন এবং রিফারবিশড ফোনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হবে না।
বর্তমানে ব্যবহৃত সচল মোবাইল ফোন কোনোভাবেই ১৬ ডিসেম্বর-এর আগে বন্ধ হবে না বলেও আশ্বাস্ত করা হয়েছে। এরপর এনইআইআর চালু হলে বৈধ আইএমইআই নম্বরহীন হ্যান্ডসেট কেনা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, অবৈধ আমদানিকৃত, চোরাচালানকৃত, এবং ক্লোন ফোন বাংলাদেশে বন্ধ করা হবে । দেশে বিদেশের পুরোনো ফোনের ডাম্পিং বন্ধ হবে। কেসিং পরিবর্তন করে এসব ইলেকট্রনিক বর্জ্য দেশে ঢুকিয়ে যে রমরমা চোরাকারবারি ব্যাবসা শুরু করা হয়েছে, সেটা বন্ধ করা হবে।


