কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি বা কোনো মাধ্যমে অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার এ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দেয়। রায়ে মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ, লিঙ্গ শনাক্ত ও পরিচয় প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা আর প্রকাশ করা যাবে না বলে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তীর্থ সলিল রায়।
রায়ে বলা হয়, মাতৃগর্ভে থাকা অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্যকে উৎসাহিত করে, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।
২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট করেন। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে।
রুলে গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং অনাগত শিশুর লিঙ্গ-পরিচয় নির্ধারণে নীতিমালা তৈরি করতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। স্বাস্থ্য সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাত বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।


