মানিকগঞ্জে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

মানিকগঞ্জে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে জমি দখল, ফসল লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই নেতার চক্র চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।

সম্প্রতি এই অবস্থার প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার বুকে জেগে ওঠা হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। একসময় শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা এবং আজিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সামসুদ্দিন মেম্বারের নেতৃত্বে একটি চক্র এই অপকর্ম চালাচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমি দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর, ফসল লুটপাট এবং চাঁদাবাজি করে আসছেন। সম্প্রতি এনায়েতপুর, হাতিঘাটা ও বসন্তপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু জমি দখল এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসল লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, এই চরাঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তবে লাগাতার সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। এর পাশাপাশি তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।

আরও পড়ুন

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আজিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সামসুদ্দিন মেম্বার। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা। তিনি বলেন, ‘জমি দখল, চাঁদাবাজি কিংবা লুটপাটের সঙ্গে আমার বা আমার লোকজনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি পক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রশাসনের তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মহরম আলী বলেন, ‘জমি দখল, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad