সারা দেশে যখন শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই সময়েই চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে জনরোষে পড়ে পুলিশ। এ সময় সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডের একটি বাসায় ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় শিশুটি বাসায় একা ঘুমিয়ে ছিল। তার মা পোশাক শ্রমিক এবং বাবা রিকশাচালক। তারা দুজনই কাজে বাইরে ছিলেন।
জনরোষ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্ত মনিরকে আটক করে স্থানীয় মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ সদস্যদের তাকে হেফাজতে নিতে বাধা দেয়। তারা তাকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ‘জনতার বিচার’ করার দাবি তোলে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তা চায়। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক নারী, শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরী বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং দ্রুত বিচার দাবি করে স্লোগান দেয়।
বিক্ষুব্ধ আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা বিচার চাই। আমরা নিজেরাই বিচার করব। অপরাধীকে ছাড়া যাবে না। সে ছাড়া পেলে আবারও অপরাধ করবে। আমরা প্রকাশ্য বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড চাই।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে একাধিকবার ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশের ৩–৪টি গাড়ি পিছু হটতে বাধ্য হয়, ফলে দীর্ঘ সময় এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার পর আমরা অভিযুক্ত মনিরকে আটক করি। কিন্তু থানায় নেওয়ার সময় জনতা বাধা দেয়। টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতি শান্ত করা যায়নি। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
শিশুটির বর্তমান অবস্থা
ভুক্তভোগী শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলছে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে।


