একমাত্র দেশীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক টেলিটকের জন্য ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি টেলিকম খাতে প্রযুক্তিগত বৈষম্য বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভোক্তা অধিকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন পালন করা হয়।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ২৫ মেগাহার্টজ নিলাম ডেকেছে। এতে টেলিটকের জন্য আগের মতো কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
অবশিষ্ট ২০ মেগাহার্টজ পরবর্তীতে চাহিদার ভিত্তিতে বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকলেও রাষ্ট্রীয় অপারেটরকে বাদ দিলে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি টেলিটকের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়ার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই টেলিটককে স্পেকট্রাম দেওয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এখন টেলিটককে বন্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। টেলিটকের জন্য ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ আবু নাসের বলেন, একটি বেসরকারি অপারেটর প্রায় ৯০ শতাংশ মুনাফা করছে এবং আরেকটি প্রায় আট শতাংশ। কিন্তু টেলিটকসহ বাকি অপারেটররা লোকসান গুনছে।
টেলিটককে যদি এমন অবস্থায় রাখা হয়, বাজার থেকে প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাবে বলেও যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড টেলিটকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় উন্নত কভারেজ দিতে সক্ষম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদেশি মালিকানাধীন একটি অপারেটর সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে প্রকাশ্যে টেলিটককে কোনো বরাদ্দ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তার মতে, টেলিটক এই ব্যান্ড না পেলে এর দুর্বল নেটওয়ার্কে গ্রাহকের ভোগান্তি বাড়বে। এ সময় বিদেশি অপারেটররা অস্বাভাবিক বাজার সুবিধা পাবে এবং জরুরি সরকারি সেবাতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
শুধু তাই নয়, বেশি সংখ্যক টাওয়ার বসানোর প্রয়োজন হলে টেলিটকের ব্যয় বাড়বে। যা সেবার মান এবং মূল্য উভয় ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে।
১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিদেশি অপারেটররা উন্মুক্ত বাজারে সেবা দিলেও গ্রাহকদের উচ্চ কলচার্জ, ইনকামিং কলের ফি এবং অব্যবহৃত ব্যালেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে হয়েছিল। এসব সংকট মোকাবিলায় নাগরিকবান্ধব কম খরচে সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে টেলিটক প্রতিষ্ঠিত হয়।
কম কলচার্জ দিয়ে টেলিটক বিদেশি অপারেটরদেরও মূল্য কমাতে বাধ্য করেছিল, যা ছিল টেলিটকের প্রথম বড় অবদান।
বিদেশি অপারেটররা যেখানে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে, সেখানে টেলিটক মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকার সীমিত সম্পদ দিয়ে সেবা দিয়ে আসছে।
মানববন্ধনে অনলাইন ভর্তিতে সহায়তা, চাকরির আবেদন গ্রহণ এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো টেলিটকের গুরুত্বপূর্ণ অবদানও তুলে ধরা হয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়।


