প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা শিক্ষকদের

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা শিক্ষকদের
শহীদ মিনারে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চাকরির গ্রেড বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে সোমবার থেকে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা’ বা ‘বার্ষিক পরীক্ষা’ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে পৃথক চার দাবিতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর আহ্বায়ক শামছুদ্দিন মাসুদ বিষয়টি জানান।

টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, চাকরিতে ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। এ সময় কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা নেবেন না তারা।

এদিকে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটিকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করাসহ চার দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ২৪ নভেম্বর থেকে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে, চার দাবিতে সোমবার থেকে শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণ হলে ছুটির দিনে পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন

মাধ্যমিক শিক্ষকদের বাকি তিনটি দাবি হলো- শূন্যপদে শিক্ষকদের নিয়োগ এবং পদোন্নতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা; বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা এবং সহকারী শিক্ষকদের ন্যূনতম দুটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন–সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।

এরই মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষকদের কর্মবিরতির মধ্যেই সোমবার থেকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এমনকি চিঠিতে ‘তৃতীয় সাময়িক’ পরীক্ষা গ্রহণে কোনো অনিয়ম হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা’ বলে কোনো কিছু অনুষ্ঠিত হয় না। সোমবার থেকে ‘তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আমরা ‘তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা’ বা ‘বার্ষিক পরীক্ষা’ বর্জন করছি।’

‘সোমবার থেকে শিক্ষকরা নিজ নিজ স্কুলে যাবেন এবং কোনো পাঠদান বা পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে কর্মবিরতি পালন করবেন। দাবি পূরণ হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেই শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান শুরু করবেন এবং পরীক্ষা নেবেন’ বলেও জানান তিনি।

সারা দেশে মোট ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ জন। চাকরির গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন তারা। এর আগে ৮ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad