প্রাথমিকে সংগীত-শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদ

প্রাথমিকে সংগীত-শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদ
শনিবার ‘আগামী প্রজন্মকে বিবেক-বুদ্ধিহীন রোবটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত কর’ স্লোগানে আয়োজিত এই সমাবেশ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে ২৩ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন’।

শনিবার ‘আগামী প্রজন্মকে বিবেক-বুদ্ধিহীন রোবটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত কর’ স্লোগানে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, শিশুদের মনোজগত ও সৃজনশীলতা বিকাশে সংগীত, শরীরচর্চা, নৃত্য, নাটক ও আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোকে শিক্ষাক্রমে আরও বেশি করে যুক্ত করা জরুরি।

তারা অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকতার আওতায় এনে ধ্বংস করার এক ধরনের সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে, যা রোধ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিকে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে ফেলে ধ্বংস করে দেওয়ার এক ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।’

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতিকর্মীরা গান, নৃত্য, নাটক ও আবৃত্তির মাধ্যমে মানুষের মনোজগতকে বিকশিত করার কাজ করে থাকেন। তাই তাদের দুর্বল ভেবে ভুল করবেন না।

আরও পড়ুন

অমিত রঞ্জন দে সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষা বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ পুনর্বহালের পাশাপাশি নৃত্য, নাটক ও আবৃত্তি শিক্ষাকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

প্রতিটি সরকারই বিদেশি উদাহরণ এনে বলতে চায়, আমরা অমুক দেশের মতো হতে চাই। আমরা তা চাই না। আমরা চাই আমাদের দেশ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও চেতনায় গড়ে উঠুক, যোগ করেন তিনি।

উপস্থাপিত দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহির শাহরিয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সভ্য জাতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে এবং শরীরচর্চার মতো মৌলিক অধিকার হরণ করতে চাইছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলবাদী প্রেসার গ্রুপের মদদে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করছে। এই গোষ্ঠীর চাপেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের প্রভাবেই বর্ষবরণের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনে যুক্ত সংগঠনগুলো হলো-বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, নবান্ন উৎসব উদযাপন পরিষদ, বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ, রাধারমন সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, শিল্পকলা বিদ্যালয় ঐক্যজোট, বাংলাদেশ বাউল ও লোক  শিল্পী সংস্থা, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, ভয়েস অব আর্টিস্ট, প্রাচ্যনাট, বিশ্ববীণা, আনন্দন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad