রাজনৈতিক দলগুলোর লাগামছাড়া কর্মসূচি রাজপথে সংঘাত ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সংঘর্ষ নয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায়।’
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রেস কনসালট্যান্সির উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘কথায় কথায় রাস্তায় নামলে, পাল্টা আরেক দল নামলে পরিণতি কী? সংঘর্ষ। বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি যদি রাস্তায় নামে, তখন সেটি সংঘাতেই গড়াবে। আমরা কি শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছি সংঘাত দেখতে?’
তিনি কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও, জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজপথের কর্মসূচি এবং গণভোট আগে করার দাবির দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতৃত্ব যে উদ্বিগ্ন, সেটি স্পষ্ট করেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের উপস্থিতিতেই আমীর খসরু বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল ইস্যু নিয়ে অবসেসড হয়ে যাচ্ছে, নতুন ইস্যু তৈরি হলে ঐকমত্যের প্রতি সম্মান থাকে না।’
ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে নতুন দাবি তোলা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হবে। আর যেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি, তা জনগণের সামনে নিয়ে যেতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবিধানের আলোকে গঠিত। সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। যদি গণভোট করতেই হয়, তাহলে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে তা অনুমোদন নিয়ে তারপর করা সম্ভব।’
একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশে নির্বাচনী পরিবেশ বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডসহ সহিংস ঘটনাগুলো নির্বাচন পেছানোর কৌশল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো–প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক শাহাব এনাম খান এবং সভাপতিত্ব করেন ট্রেস কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী ফুয়াদ এম খালিদ হোসেন।


