জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে হবে। আলাদা করে গণভোট করা হলে বাড়তি খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে। এটি অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়।
শনিবার বিকালে ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য নিশ্চিত করতেই গণভোটের প্রস্তাব উঠেছিল, কিন্তু তা ভিন্ন দিনে আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি ও গণতন্ত্রপন্থী দলগুলো দ্রুত নির্বাচনী প্রচারে নামবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ভূমিকায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের নিরপেক্ষ রেফারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো আচরণ করছে সরকার। সাত দিনের মধ্যে দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে বলার এখতিয়ার অনির্বাচিত সরকারের নেই।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার এই ধরনের প্রদর্শন উপযুক্ত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করা, এর বেশি নয়।
বিএনপি কমিশনের কাজকে সেই সাংবিধানিক ও নৈতিক সীমার ভেতরে থেকে সমর্থন দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বিএনপির অতীত ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র ও জাতীয় উন্নয়নে দলটির অবদান ঐতিহাসিক। কর্তৃত্ববাদ বা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ বা অচলাবস্থা তৈরির প্রচেষ্টাও তিনি নাকচ করে দেন এবং প্রতিপক্ষকে রাজপথে বিশৃঙ্খলা নয়, বরং জনপরিসরে বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।


