দেশের দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স খাতে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও গ্রাহক আস্থা নিশ্চিত করতে সব ই-কমার্স, কুরিয়ার, পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ভার্চ্যুয়াল সেবা প্রদানকারীকে সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম বা সিএলটিপি–তে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার ডাক ভবনে অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী সভায় প্ল্যাটফর্মটির বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এটুআই–এর তত্ত্বাবধানে সিএলটিপি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে এবং এর প্রাথমিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডাক অধিদপ্তরকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সিএলটিপি প্ল্যাটফর্ম থেকে ডেলিভারি নিশ্চিতকরণের সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মার্চেন্টের অনুকূলে অর্থ ছাড়া করা হবে না।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আগে পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে গ্রাহকদের ফোন করে ডেলিভারি যাচাই করতে হতো। সিএলটিপি চালু হলে এই ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার অবসান ঘটবে এবং প্রতিটি লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে।
তিনি আরও বলেন, এসক্রো হিসেবে আটক রাখা অর্থ কোনোভাবেই সমষ্টিগতভাবে উত্তোলন করা যাবে না এবং প্রতিটি গ্রাহকের ঠিকানায় সফল বিলির পরেই অর্থ ছাড়া হবে। তিনি জানান, বিমান টিকিটের মতো ভার্চ্যুয়াল পণ্যের বিলিতেও সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সিএলটিপি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।
সভায় জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জারি করা জাতীয় লজিস্টিক্স নীতি ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও এসক্রো নীতিমালা ২০২৩ অনুসারে অনলাইনে পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের জন্য সিএলটিপি–তে যুক্ত হওয়া এখন বাধ্যতামূলক। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় প্ল্যাটফর্মটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
সিএলটিপি বাস্তবায়নে ডাক অধিদপ্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করবে।
এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ই–কমার্স খাতে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং গ্রাহক আস্থার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, আইসিটি বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কুরিয়ার সার্ভিস, ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ব্যাংক, পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


