সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে শিক্ষাঙ্গন।
রোববার সারা দেশের শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে আহত শিক্ষকদের উন্নত চিকিৎসা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতি বলেছে, শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বাংলাদেশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে ঠেলে দেওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক। শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলায় শিক্ষা পরিবার অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
৩৬তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) প্রধান শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসে শিক্ষকদের দাবি পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের দাবির প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সরকার যেন যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছায়, আমরা সেই প্রত্যাশা করি।

সম্প্রতি প্রাথমিকের শিক্ষকরা চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করা, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি এবং চাকরির ১০ম ও ১৬তম বছরে উচ্চতর গ্রেডের নিশ্চয়তার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষকদের চারটি আলাদা সংগঠন একত্রিত হয়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ব্যানারে একটি মোর্চা গঠন করে আন্দোলন শুরু করে। চারটি সংগঠন হলো–প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।

পূর্বঘোষিত তিনটি দাবি পূরণের লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন শিক্ষকরা। শনিবার বিকালে শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে তারা জাদুঘর প্রাঙ্গণে থেমে যান। পরে শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জল কামান নিক্ষেপ করে।
এরপরেই ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সভাপতি আবুল কাশেম কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।


