গাজা থেকে ইসরায়েলকে আরও তিন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেডক্রসের মাধ্যমে স্থানীয় সময় রোববার আইডিএফ-এর কাছে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো বুঝে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়, এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ গাজার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই দেহাবশেষগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
অক্টোবরের ১০ তারিখে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে ১৭ জিম্মির মরদেহ ফেরত দিল হামাস। এখনও গাজায় আরও আট জিম্মির দেহাবশেষ রয়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার জানান, হামাসের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া দেহাবশেষের মধ্যে ওমের নয়ট্রা নামের এক মার্কিন-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিকের দেহাবশেষও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি নয়ট্রার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। নয়ট্রা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একটি ট্যাঙ্ক প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার দেহাবশেষ ফিরে পাওয়ার খবরে পরিবারের সদস্যরা আবেগে আপ্লুত হয়ে আছেন। তবে এটি কোনো সুখের অনুভূতি নয়, সন্তানের মরদেহ ফিরে পাওয়া সুখের নয়।’

এর আগে গত শুক্রবার আরও তিন জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলে ফিরিয়ে দেয় হামাস। তবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, এরমধ্যে কোনোটিই হামাসের হাতে জিম্মির দেহাবশেষ নয়। ডিএনএ পরীক্ষায় অজ্ঞাত ওই মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়নি বলে জানান তিনি।
হামাস কিছুদিন পর পর একজন বা দুইজন জিম্মির দেহাবশেষ ফেরত দিচ্ছে। নেতানিয়াহু এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গাজার কিছু অংশে এখনও হামাসের ঘাঁটি রয়ে গেছে। হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করলে রাফা ও খান ইউনিসে তাদের দুটি ঘাঁটিই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
তবে হামাসের দাবি, গাজায় মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ কিট, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের মতো ভারী সরঞ্জাম নেই। এ কারণে জিম্মিদের দেহাবশেষ হস্তান্তরে বেশি সময় লাগছে।
প্রতিটি ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহের বিনিময়ে ১৫ ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহ দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এই দেহাবশেষ বিনিময়ই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক ধাপের কেন্দ্রবিন্দু।


