সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে ১ জুলাই থেকেই নতুন কাঠামোতে বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকে নতুন অর্থবছর থেকেই বেতন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয় সরকার। ওইসব বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। তারা তিন অর্থবছরে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলে। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতন ৫০ শতাংশ করে বাড়ানো এবং তৃতীয় অর্থবছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা ভাতা যোগ করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাজেটের সীমাবদ্ধতাও আছে। এর মধ্যে অর্থনীতির অবস্থাও খারাপ, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের পরিস্থিতিও খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে এবং কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখা হবে।’
কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে গঠিত কমিটি। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বৃদ্ধি হতে পারে। তবে যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত।
৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ৫৫ থেকে ৭৪ বয়সী পেনশনভোগীরা পেতে পারেন ৮ হাজার টাকা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
বেশি বেতনের সরকারি চাকরিজীবী, অর্থাৎ প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই। তবে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ বাড়বে, এই বিষয়টি সামনে আসায় সেই সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে যাওয়ার কথা বলে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর বিএনপি আগের সরকারের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়ার পথেই হাঁটে। গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।


