ঢাকার ওয়ারী থানায় করা প্রতারণার ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মামলায়ও জামিন পেয়েছেন ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদি। তিনি বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে। সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আদেশ দেয়।
ইকবাল মাহমুদ শোভন বলেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তিনি আগেই জামিন পেয়েছেন। আজ ওয়ারী থানার মামলায় জামিন পেলেন। তিন মামলায় জামিনের আদেশ হওয়ায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।’
গত বছরের ২৪ অগাস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত ১১ জুন তৌহিদ আফ্রিদিকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই মো. মাহফুজুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন তাকে নতুন এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজের সুযোগ পান। ফাতেমা ঐশ্বী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দ্যূতিকে গুগলে রিভিউ দিতে বলে এবং কাজের জন্য টেলিগ্রাম অ্যাপ খুলতে বলেন। পরদিন কাজের জন্য দ্যূতিকে ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। লিসা নামের আরেক ব্যক্তি পরদিন তাকে টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করেন। সেখানে অন্য সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর মুনাফাসহ আসল ফেরত পেলে স্ক্রিনশর্ট দেওয়া হতো। তাদের দেখে আশ্বাস পেয়ে দ্যূতি লিসার বিকাশ নাম্বারে দুই হাজার টাকা পাঠান। সেদিনই তিনি আসলসহ ২৮০০ টাকা ফেরত পান।
গত বছরের ১৫ জানুয়ারি তাকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। আরও কাজ শেখার জন্য তাকে আরেকটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে বলা হয়। বিশ্বস্ততা অর্জন করে তার কাছ থেকে মোট দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করা হয়। ওই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামে আসামি করে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়ারী থানায় মামলা করেন। মামলায় তোহিদ আফ্রিদিকে আসামি করা হয়।


