মানবতাবিরোধী অপরাধে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত।
মামলায় অনুপস্থিত আসামিদের ব্যাপারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত ।
হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত দুটি গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা রয়েছে।
সেনা কর্মকর্তারা কোন কারাগারে থাকবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কারা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবেন। ট্রাইব্যুনালের সংশোধনী আইনে আসামির স্ট্যাটাস অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেক্ষেত্রে অস্থায়ী কারাগারে নাকি জেলখানায় কর্মকর্তাদের নেয়া হবে সেটি কারা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।’
তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে দুটি গুমের মামলা ও গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রামপুরা এলাকার গণহত্যায় জড়িত থাকার ঘটনায় একটি মামলায় আসামীদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেই বুধবার সকালে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে এসেছিল।’

বুধবার সকাল ৭টার দিকে সবুজ রঙের একটি বিশেষ প্রিজন ভ্যানে এই কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়।
এসময় আদালত ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত দুটি গুমের ঘটনাসহ তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠনের পর, গত ৮ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা।
তার মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ১১ অক্টোবর ‘হেফাজতে’ নেওয়ার কথা জানায় সেনা সদর। বুধবারের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সে অনুযায়ী হাজির করা না হলে আইন অনুযায়ী তাদের আত্মসমর্পণের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতো।


