জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা সানায়ে তাকাইচি। ৬৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ শনিবার রক্ষণশীল দলটির নতুন নেতা নির্বাচিত হন।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় দফার রানঅফে ১৮৫ ভোট পেয়ে জয় পান তাকাইচি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিনজিরো কোইজুমি পেয়েছেন ১৫৬ ভোট। আর বর্তমান সরকারের প্রধান মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি ১৩৪ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫৫ সাল থেকে জাপানে ‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল’ হিসেবে একচ্ছত্র জায়গা করে নেয় এলডিপি। জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও ২০২১ সালে এলডিপি’র প্রধান নেতা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন। মাঝে কেবল ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাপান শাসনের সুযোগ পেয়েছিল ডেমোক্রেটিক পার্টি (ডিপি)।
এনবিসি নিউজের খবরে সানায়ে তাকাইচিকে একজন কঠোর রক্ষণশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে ‘আদর্শ’ হিসেবে অনুসরণ করেন। একই সঙ্গে তাকাইচি জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
তবে জাপানের অসংখ্য নারী ভোটারই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারক হিসেবে তাকাইচিকে দেখতে চান না। এর পেছনে কারণ হিসেবে তাকাইচির কট্টর রক্ষণশীল মনোভাব, বিয়ের পর নারীদের নিজের পারিবারিক নাম (মেইডেন নেম) রাখার আইনের বিপক্ষে অবস্থান, সমলিঙ্গ বিয়ের বিরোধিতাকে উল্লেখ করেন তারা।

এলডিপি’র নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিজয়ী ভাষণে তাকাইচি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি খুশি হয়ে আনন্দ উল্লাস করার বদলে বিশ্বাস করি- এখন থেকেই সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ শুরু। আমাদের একসঙ্গে অনেক কাজ, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে কলুষিত এলডিপিকে “আরও উদ্যমী ও প্রাণবন্ত” দলে পরিণত করা জরুরি। আমরা এমন একটি দল যারা মানুষের উদ্বেগকে আশায় রূপান্তরিত করতে পারে।’
এলডিপি’র বেশিরভাগ সদস্যই তাকাইচির উত্থানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের শাসনামলের ‘সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে দেখছেন। তাকাইচি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলে তাকে জাপানের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতিকেও সামাল দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অগ্রাধিকার হবে গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন। তাকাইচিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলে এই চুক্তি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করতে পারেন।
এতে তাকাইচির জাতীয়তাবাদী ইতিহাস সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন অনেকে।


