গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে আসা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ ৪২টি জাহাজই আটক করেছে ইসরায়েল। নৌবহরের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, এত কিছুর পরেও যাত্রা অব্যাহত রেখেছে নৌবহরের শেষ জাহাজ ‘মারিনেট’।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ট্র্যাকারের তথ্য থেকে আল জাজিরা জানায়, আন্তর্জাতিক সময় শুক্রবার ভোর ৪টা পর্যন্ত মারিনেট ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজার জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। ফ্লোটিলার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ছয় সদস্যের ক্রু নিয়ে গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পোল্যান্ডের পতাকাবাহী ওই জাহাজ।
৪৪ নৌযান নিয়ে যাত্রা করা ফ্লোটিলার শেষ কার্যকর নৌযান এটি।
ফ্লোটিলা সংগঠক ও আয়োজকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও কলে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা নিশ্চিত করেন জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্যামেরন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। ক্যামেরন জানান, পুরো ফ্লোটিলার সঙ্গেই তাদের গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে যাত্রা শুরুর পরপরই ইঞ্জিনে কারিগরি ত্রুটির তারা মূল বহরের পেছনে পড়ে যায়। অবশ্য এখন গতি বাড়িয়ে তারা গাজার উদ্দেশে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

বহরের অন্য জাহাজ ইসরায়েলের হাতে আটক হওয়ার খবর শুনেও কোনো আরোহী পিছু হটতে চাননি বলে নিশ্চিত করেন ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আছেন কিছু সাহসী তুর্কি নাগরিক। ওমানের এক নারী এবং আমি নিজে। আমরা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে গাজামুখী ৪১টি জাহাজ এবং ফিলিস্তিনের সমুদ্রসীমা থেকে একটি জাহাজ আটক করে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।

এসব জাহাজে থাকা পাঁচ শতাধিক আরোহীকে অক্ষত অবস্থায় ইসরায়েলে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষ জাহাজ মারিনেটকেও সতর্ক বার্তা দিয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়, মারিনেট যদি ইসরায়েলের আরোপিত ‘বৈধ অবরোধ’ ভেঙে চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে সেটিও আটক হবে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাই গাজা যুদ্ধের দুই বছরে ত্রাণবাহী সবচেয়ে বড় নৌবহর। তাদের মূল লক্ষ্য গাজায় মানবিক সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ।


