চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন (ডিসি হিল) থেকে বের হওয়া গাড়ির চাপায় অন্তঃস্বত্ত্বা কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে ‘হত্যা মামলা’ হয়েছে।
আদালত মামলা নিয়ে থানাকে সরাসরি এজাহার হিসেবে লিপিবদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন।
বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে মামলাটি করেন তোফায়েল আহমেদ নামে এক তরুণ, যিনি অভিযোগে নিজেকে ‘পশুপ্রেমী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বাদীর আইনজীবী নাজনীন জেনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইনের ৯৮ ধারা এবং পশু হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলায় কুকুরটিকে চাপা দেওয়া পিকআপ ভ্যানের চালক ও ডিসি হিলের মূল ফটকের নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ তদন্তে সে সময় দায়িত্বরতদের নাম-পরিচয় জানতে পারবে বলা হয়েছে অভিযোগে।
আদালত বাদীর বক্তব্য নিয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানাকে অভিযোগ সরাসরি এজাহার হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন।
সেইসঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জড়িত আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৪ ডিসেম্বর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় ডিসি হিলের মূল ফটকের সামনে একটি অন্তঃস্বত্ত্বা কুকুর বসা ছিল।
ডিসি হিলের ভেতর থেকে একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান বের হওয়ার জন্য গেটে আসে। তখন মূল ফটক বন্ধ ছিল। দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী ফটক খুলে দেন। তিনি কুকুরটিকে সরাননি, গাড়িচালককেও থামাননি।
কুকুরটিকে চাপা দিয়ে গাড়িটি চলে যাওয়ার পরও নিরাপত্তাকর্মী কোনো পদক্ষেপও নেননি।
এ ছাড়া, গাড়িচালক কুকুরটিকে চাপা দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেও গাড়ি চালিয়ে চলে যান। গাড়িচালক ও নিরাপত্তাকর্মী কেউ অন্তঃস্বত্ত্বা কুকুরটিকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টা করেননি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন জানান, ঘটনার দিন একজন কর্মকর্তাকে পৌঁছে দিয়ে গাড়িটি চলে যাচ্ছিল। এর মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক ওই চালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুকুরটির মৃত্যুতে চালকের দায়-দায়িত্ব কতটুকু, তা বের করবে কমিটি। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিভাগীয় কমিশনার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) রাশেদা আক্তারকে আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন ও জেলা প্রাণিসম্পদের কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দেখে সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি চিকিৎসক মো. মনজুরুল করিম গত রোববার কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কুকুরটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। গাড়ির চাপায় কুকুরটি মারা গেছে। তাই অভিযোগ করেছি।’
তিনি জানান, ঘটনার পর মৃত কুকুরটিকে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য সংগ্রহকারী গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, ‘মামলার বিষয়ে জানি না। খোঁজ নিয়ে জানাব।’


