খাগড়াছড়িতে চলমান অস্থিরতা নিয়ে ডাকসুর উদ্বেগ

খাগড়াছড়িতে চলমান অস্থিরতা নিয়ে ডাকসুর উদ্বেগ
Advertisement
Advertisement

খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং এর পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

এ ঘটনায় শয়ন শীল নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মামলার এজাহারে উল্লেখিত সময়ে তিনি খাগড়াছড়ি বাজারে কেনাকাটা করছিলেন। বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

অন্যদিকে, মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক জয়া চাকমা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই এবং সে ধর্ষণের শিকারও হয়নি। প্রতিবেদনের আলামত পরীক্ষার সবকটি সূচক ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরস্পরবিরোধী তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

স্বচ্ছ প্রমাণের ভিত্তিতে যদি ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হয় তবে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আবার, যদি প্রমাণিত হয় ঘটনাটি সাজানো, তবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে ডাকসু।

আরও পড়ুন

সংগঠনটি বলেছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া না মেনে অবরোধ, অ্যাম্বুলেন্সে হামলা, দোকান ভাঙচুর, ঘরবাড়ি পোড়ানো ও পর্যটক হয়রানি দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা জাতিগত সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। এ সংঘাতে আথুই মারমা, আথ্রাউ মারমা এবং তৈইচিং মারমা নামে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ডাকসু এসব হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়।

ডাকসু বলেছে, ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বদলে সেটিকে অবরোধ ও সংঘাতে রূপ দেওয়া সমীচীন নয়। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছেন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালিসহ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ষড়যন্ত্র একে আরও জটিল করছে।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এ ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও উসকানি বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ‘গণহত্যার’ আহ্বান জানাচ্ছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ডাকসু মনে করে, ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ছে। সংগঠনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ কোনো একক জাতিগোষ্ঠীর নয়, বরং সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। তাই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad