জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের মূল কেন্দ্রবিন্দু (নিউক্লিয়াস) ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রোববার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। তিনি ছিলেন এই অপরাধের নিউক্লিয়াস।’
তিনি জানান, ‘১৬ আগস্ট ২০২৪ তদন্ত শুরু হয়ে ১২ মে রিপোর্ট দাখিল ও ১ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর ৩ আগস্ট মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শুরু হয়।’
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর তিন সদস্যের বেঞ্চে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন। ট্রাইব্যুনালের সভাপতিত্ব করছেন বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর অনুমতি সাপেক্ষে এই বিচার কার্যক্রম রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এর আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে ন্যায়বিচার কামনায় ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দেন।
বিচারিক কার্যক্রমে প্রসিকিউশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ উপস্থিত রয়েছেন। মামুন এ দিন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামুনের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও একই দিনে মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল।


