রাজনৈতিক কারণে কারো ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের অপসংস্কৃতির চিরস্থায়ী অবসান চায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস। জুলাই সনদ প্রণয়নে সরকারের টালবাহানার সমালোচনাও করা হয় এ সময়।
বক্তারা বলেন, ‘দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলুপ্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে জুলাই অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে। এমন একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে, যে সরকার হবে সবার। শুধু ভিন্ন মতের কারণে যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে হবে।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জুলাই বিপ্লব: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও আগামীর পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মসলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ পাবে। কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা থাকবে না। এটাই ইসলামের রীতি। এটাই নতুন বন্দোবস্ত।’
নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান আবদুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সমাজ থেকে ফ্যাসিজম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরতন্ত্র দূর করতে হবে। পুলিশ-বিচারক কারো ফোনে প্রভাবিত হবে না। বিচার প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ। ন্যায়ের ওপর সমাজকে গড়ে তুলতে হবে। যাতে আর কেউ ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান দেশে প্রথম কোনো আন্দোলন, যেখানে বামপন্থী ও ডানপন্থীরা একত্রে রাজপথে নেমেছিল। এটি সবার যৌথ প্রচেষ্টায় হয়েছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে।’
সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করা যাবে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোপন পুলিশিং, সেনা নির্ভর শাসন ও রাজনৈতিক বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে নিজেদের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না করে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মোহাম্মদ রায়হান আলী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।


