বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি হারিয়ে শাশুড়ি, স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন হাসিনা। এক সপ্তাহ আগে শেষবার রান্নার চুলা জ্বলেছিল। সেই থেকে ছেলেমেয়েরা শুধু ‘ভাত ভাত’ বলে কেঁদে চলেছে।
ভাত চাইলে তাদের দেওয়া হতো চিড়া-মুড়ি। আর তাতেই পার করছিলেন দিন।
বৃহস্পতিবার বিকালে টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে দেখা যায়, মানবিক বিপর্যয়ের নানা চিত্র। স্কুলের মাঠেও বুক সমান পানি। ডুবে গেছে টিউবওয়েল। আশপাশের রাস্তায় তখনো কোমর সমান পানি। স্কুলের মাঠে মাছ ধরছেন কয়েকজন। নিচতলায় আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩০টি পরিবার।
সেখানেই কথা হয় হাসিনার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চিড়া-মুড়ি খেতে আর ভালো লাগে না। ভাত-ডাল খেতে ইচ্ছে করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল বন্ধ। কাউকে ফোন করে খাবার আনতে বলব, সেই উপায়ও নেই।’
আশ্রয়কেন্দ্রে আসার সময় কিছু চাল ও ডাল এনেছিলেন তিনি। পরে অনেক চেষ্টা করে সংগ্রহ করা হয় একটি চুলা। বিকাল ৫টার দিকে তিনি রান্নার প্রস্তুতি নেন। সন্তানদের মুখে একটু হাসি দেখা দেয়। অবশেষে, এক সপ্তাহ পর হাসিনা ও তার পরিবার খেতে পায় ডাল-ভাত।


