প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। রাজধানীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিল্পীর মঙ্গলবার ভোররাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়লে তাকে নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগ, শ্বাসকষ্টজনিত রোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। এ দিন দুপুরে সমাজ মাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
ইউনিভার্সেল হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিএফ জামান টাইমস অব বাংলাদেশকে এদিন দুপুরে জানান, ‘ফারিদা পারভীনের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছে না। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়লে তাকে নেওয়া হয় আইসিইউ’তে।’
তিনি জানান, ‘শিল্পী এখন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. দোলোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। যে কোনো মুহুর্তে তাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হতে পারে।’
শিল্পীর স্বামী গাজী আব্দুল হাকিম জানান, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় এর আগেও তাকে তিনবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি আইসিইউতে ছিলেন ১৩ দিন। পরে সুস্থ হলে কেবিনে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘কিডনির জটিলতায় তার ডায়ালাইসিস চলছিল। এর মধ্যে তো আরও অসুস্থ হয়ে গেলেন। দেশবাসীকে তার জন্য দোয়া করতে বলবেন।’
গাজী আব্দুল হাকিম আরো বলেন, ‘আমরা চাই ফারিদাকে দেশে বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে। এর জন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।
‘কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা কোনো আর্থিক সহায়তা চাইছি’, যোগ করেন তিনি।
ফরিদা পারভীনের জন্ম ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাঔঁল গ্রামে। নজরুল ও দেশাত্মবোধক গান দিয়ে পরিচিত পেলেও ফরিদা পারভীন লালনসংগীতে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন তিনি। ১
৯৭৩ সাল থেকে মোকছেদ আলী সাঁইসহ বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত সাধকের কাছে লালন সঙ্গীতের শিক্ষা গ্রহণ করেন ফরিদা। ১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজ এবং ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন শিল্পী।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে লালন সঙ্গীত চর্চা ও প্রচারে যুক্ত ফরিদা পারভীন ১৬ বছর আগে ‘অচিন পাখি মিউজিক একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে প্রতিষ্ঠানটি ঠিকমতো চলেনি।


