তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রভাবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশের মোট রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বছরে বছরে রপ্তানি আয় কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ।
সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ১২ শতাংশ।
তারপরও বৈশ্বিক বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং ক্রেতাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সামগ্রিক রপ্তানি খাতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এই খাতেই বড় ধাক্কা লেগেছে। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, আয় দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে।
এর মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, আর ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়ে ১০ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
শুধু জানুয়ারিতেই পোশাক খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। নিটওয়্যার ও ওভেন-দুই উপখাতেই এ সময়ে সামান্য পতন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও সামনে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি ক্রেতারা উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানি বাণিজ্য আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এখনো দুর্বল। ফলে ক্রেতারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কভাবে অর্ডার দিচ্ছেন। তবে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বাজারে মজুদ কমে এলে রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
পোশাক খাতের দুর্বলতার মাঝেও কয়েকটি অ-পোশাক খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়ে ৭৭০ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া প্রকৌশল পণ্যে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ (৩৬৯ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার), পাট ও পাটজাত পণ্যে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ (৪৯৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার), হোম টেক্সটাইল খাতে ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ (২৪৩ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার) এবং হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানিতে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে আয় হয়েছে ২৯৭ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। তবে একই সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ-পোশাক খাতে এ ধরনের প্রবৃদ্ধি রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের রপ্তানি আয়ে পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।


