যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের ৯৭তম জন্মদিনের পার্টিতে নাচার কিছুক্ষণ পর মারা গেছেন ভিটো নামের এক বৃদ্ধ।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৪ বছর বয়সী বেকারি ব্যবসায়ী ইডেন মালিনফ গত সপ্তাহে প্রতিবেশী ভিটোর জন্মদিন উপলক্ষে হ্যালোইন থিমের পার্টির আয়োজন করেন। সোমবার সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও টিকটকে প্রকাশ করেন তিনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, সত্তরের দশকের জনপ্রিয় ডিসকো গান বাজছে। কালো বোতাম লাগানো শার্ট ও প্যান্ট পরা ভিটো হাততালি দিচ্ছেন, গানের তালে দুলছেন, হাসছেনও।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ আনন্দেই কাটছিল তার জন্মদিনের আয়োজন। অতিথিরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গান গাওয়ার কিছুক্ষণ পরই পার্টির মধ্যে হঠাৎ মারা যান তিনি।
মালিনফ জানান, ভিটো হ্যালোইন থিমে জমকালো পার্টির আয়োজন করেই জন্মদিন উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। তার স্বভাবের সঙ্গে এমন আয়োজনই মানানসই ছিল।
ভিটোর জন্য একটি কেকও তৈরি করেছিলেন মালিনফ। দীর্ঘ জীবন পাওয়ার রহস্য জানতে চাইলে ভিটো তাকে বলেছিলেন, কখনো সস্তা মদ পান করা যাবে না। সেই কথার প্রতি সম্মান জানিয়ে লাল ওয়াইন দিয়ে চকলেট কেক তৈরি করেন তিনি।
ভিটোর প্রাণবন্ত স্বভাবের প্রশংসা করে মালিনফ বলেন, বয়সের ব্যবধান অনেক হলেও বন্ধুদের কাছে ভিটো ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তার কাছ থেকে একটি বিষয় শিখেছেন তিনি, বয়সকে কখনো নিজের পথে বাধা হতে দেওয়া যাবে না।
মালিনফ আরও বলেন, ‘ভিটো জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পুরোপুরি বেঁচেছেন, আক্ষরিক অর্থেই। আমার বয়স ২৪ বছর, অথচ তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারতাম না। তিনিই ছিলেন পার্টির প্রাণ।’
সেদিন রাতের শেষটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি। তবে ভিটোর শেষ মুহূর্তগুলো কেটেছে তার প্রিয় মানুষ ও সংগীতের সঙ্গেই।
মালিনফ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাতটি যেভাবে শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে শেষ হয়নি। ভিটো নাটকীয়ভাবে বিদায় নিয়েছেন। তবে কীভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চান, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি হয়তো এভাবেই যেতে চাইতেন।’
তিনি আরও বলেন, ভিটোর প্রিয় মানুষগুলো তাকে ঘিরে ছিলেন। তারা তার দীর্ঘ ও পরিপূর্ণ জীবন উদযাপন করছিলেন। সেই আয়োজনে থাকতে পেরে কৃতজ্ঞ তিনি।
ভিটোর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভিটোর কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। তবে সেগুলো যে এতটা গুরুতর, তা আশপাশের কেউ বুঝতে পারেননি।
ওই বন্ধু লেখেন, ‘তার কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। সেগুলোর ভয়াবহতা আমরা বুঝতে পারিনি। প্রিয় সংগীত বাজতে থাকা অবস্থায় তিনি শান্তিতে মারা গেছেন।’
মালিনফের স্মৃতিচারণমূলক ভিডিওটি টিকটকে ইতোমধ্যে ৯৫ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘এক কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা। শান্তিতে থাকুন।’


