যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছেন ভোটাররা। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ, দুই জায়গাতেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের একক আধিপত্যের অবসান ঘটল। একই সঙ্গে বাকি দুই বছর কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন, যেগুলো কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দুই বছর আগে এসব অঙ্গরাজ্যের অনেকগুলোতেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
টেক্সাসে জেমস তালারিকোর সিনেট নির্বাচনে জয়কে এবারের নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিন দশকের বেশি সময় পর অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট জয় পেলেন। সাউথ ক্যারোলাইনায়ও রিপাবলিকান সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছেন অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। দুই অঙ্গরাজ্যেই পরাজিত প্রার্থীদের পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ধারার প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেনস পরে রজার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এতে ইসরায়েল ইস্যু ও দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও সামনে আসে।
মেইন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সও পরাজিত হয়েছেন। তাকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন। কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার রক্ষা পাননি কলিন্স।
নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এক মাসের প্রায় প্রতিদিনই সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও রিপাবলিকানদের বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি।
ট্রাম্পের শেষ দুই বছর চ্যালেঞ্জের মুখে
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাট নেতারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তারা।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা কিংবা তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের অভিশংসনের বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ডেমোক্র্যাটরা। সম্ভাব্য তদন্তের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নাম আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচনের ফল আসার আগেই পরাজয়ের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন না। অথচ এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোটারদের এমনভাবে প্রচার চালিয়েছেন, যেন নির্বাচনে তার নিজের ভাগ্যই নির্ধারিত হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো আইন অনুমোদন না করারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচারের পরিচিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের আদলে ‘ভেটো’ লেখা লাল টুপির ছবি প্রকাশ করেন তিনি।
রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফলকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষায়, ভোটাররা রিপাবলিকান প্রার্থীদের পছন্দ করেননি। তবে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ভোটের ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার আশঙ্কা করেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। অনাগরিকদের ব্যাপক ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে আলাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলাও করেছিল তার প্রশাসন। তবে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প।


