যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গণনা। এরই মধ্যে জর্জিয়ার সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। এ ছাড়া জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন দুই কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী। প্রতিনিধি পরিষদে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব।
জর্জিয়ার সিনেট আসনে জয়ী জন অসফ ২০২১ সাল থেকে সিনেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্স প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। এবারের নির্বাচনী প্রচারে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের অনুসারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কলিন্স। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালান অসফ।
এপির খবরে বলা হয়, জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী, যিনি কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হলেন। প্রতিবেশী ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান প্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডস গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর।
এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের আসনে এটিই ডেমোক্র্যাটদের প্রথম জয়।
অন্যদিকে, মিশিগানের টুয়েলভথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাশিদা তালিব। রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার ও গ্রিন পার্টির প্রার্থী ব্রেন্ডা স্যান্ডার্সকে পরাজিত করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য রাশিদা।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। বর্তমানে উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে লড়ছে ডেমোক্র্যাটরা।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরও তিনটি আসন বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাসের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে এখন পর্যন্ত দুটি আসন বাড়িয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনেও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে দলটি। নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরও দুটি আসন বাড়াতে হবে।
নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এমন সব অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকা, যেখানে ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তাদের মনোভাব এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
ফল জানতে অপেক্ষা
ভোট গ্রহণ শেষ হলেও সব আসনের ফল দ্রুত জানা যাবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা শেষ হয়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফল জানতে দেরি হতে পারে।
কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।


