সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় তিন দফা দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশ, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং সকাল ৯টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকার আল মুসলিম গ্রুপের সামনে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ তিন দফা।
সকালে শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্টার টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহান সিরাজী, ৭১ টিভির সাংবাদিক রায়হান বিন ও ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বল হোসেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ‘সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় দুই দিক থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। হামলায় ওসি গুরুতর আহত হয়েছেন।’
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় হেমায়েতপুর, উলাইল ও আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসে। তারা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির তিন প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুন জানান, সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
সকাল ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান নূর বলেন, তিন দফা দাবিতে শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


