যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের কাছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়ে এই যুদ্ধ কতটা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার এ বক্তব্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন। কেউ যদি মনে করেন, এই যুদ্ধের জন্য আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও সার্থক ছিল, তাহলে সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানে। সামনে কীভাবে এগোব, তা নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’
আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা ভ্যান্সকে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। এই যুদ্ধ দুই দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে।
ইরান ইস্যুতে ভ্যান্সের বক্তব্য প্রশাসনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের তুলনায় বরাবরই কিছুটা নমনীয়। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পর তার সর্বশেষ মন্তব্যকে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য মতপার্থক্যের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে রিপাবলিকানদের জন্য বিষয়টি বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য নিক রাহাল বলেন, ‘ভ্যান্স স্পষ্টতই ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আগামী সময়ে আরও অনেক দায়িত্বশীল রিপাবলিকান নেতাকে একই পথে হাঁটতে দেখা যাবে। জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।’
রাহাল আরও বলেন, এর আগেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে ভ্যান্সই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি শুরু থেকেই ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং এতে জড়াতে দ্বিধা প্রকাশ করেছিলেন।
ভ্যান্স তার পোস্টে নিজের পরিচিত একজন জনমত জরিপকারীকে উদ্ধৃত করেন। ওই জরিপকারীকে তিনি ‘আমার পরিচিত সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন’ বলে উল্লেখ করেন।
ভ্যান্সের দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন- এমন ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোন বিষয়গুলো তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে। তাদের দেওয়া চারটি শীর্ষ উত্তরের মধ্যে দুটি ছিল ইরান যুদ্ধের অবসান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পরিবর্তন।
অন্যদিকে, নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পরও ইরান যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সঠিক কাজটিই করেছি। আবার সুযোগ পেলেও একই কাজ করতাম।’


