লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান

লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ফকির লালন সাঁইয়ের শিক্ষা স্কুল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে এসে জানতে চান, ‘লালন উদযাপনে আমরা কী করছি? স্কুলভিত্তিক কোনো আয়োজন আছে কি? শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানবে?’ প্রধানমন্ত্রী চান, লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক।

ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিচয়ভিত্তিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লালনের দর্শন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৩৬ বছর আগে তিরোধান হওয়া লালন জীবদ্দশায় জাত, ধর্ম, লিঙ্গ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পরিচয়ভিত্তিক বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে লালনের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, ফরিদা ইয়াসমিন ও সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমী। সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান।

আরও পড়ুন

আলোচনা শেষে লালন একাডেমির শিল্পী ও দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শনিবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্য দিয়ে সাধুদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রোববার দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হলেও লালন মেলা ও সংগীতানুষ্ঠান চলবে সোমবার রাত পর্যন্ত।

লালন শাহের ঘরের অনুসারী রেজা ফকির বলেন, ‘পাঁচ ঘরের গুরুপাঠ আলাদা হলেও মতাদর্শ এক। সেই অভিন্ন দর্শনের টানেই অনুসারীরা সাধুসঙ্গে মিলিত হন। লালনের মানবতাবাদী দর্শন আগামী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।’

ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ মিলনমেলায় অংশ নিয়েছেন। লালনের গানে মানুষই মুখ্য। ‘মনের মানুষ’ ও ‘অচিন পাখি’র মাধ্যমে তিনি অন্তরের রহস্য ও মানবিকতার বাণী তুলে ধরেছেন।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক ফকির লালন শাহের তিরোধান ঘটে। তার স্মৃতি সংরক্ষণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন প্রতিবছর এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad