‘পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী শহীদ হয়েছেন’

‘পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী শহীদ হয়েছেন’
Advertisement
Advertisement

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ রিকশাচালক ইসমাইলের স্ত্রী লাকি বেগম।

জবানবন্দিতে তিনি স্বামীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরের পরিস্থিতি, হাসপাতালে নেওয়া এবং লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবির হয়রানির বর্ণনা দেন। তার দাবি, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে তার স্বামী শহীদ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন লাকি বেগম। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদ।

জবানবন্দিতে লাকি বেগম জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন তার স্বামী। মাগরিবের নামাজের সময় ছেলের এক বন্ধু এসে জানান, তার বাবা ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। খবরটি শুনে তিনি ও তার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে দেখতে পান, এক প্রতিবেশী রিকশাভ্যানে করে তার স্বামীর লাশ বাসায় নিয়ে এসেছেন। ইসমাইলের মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, মগজ বেরিয়ে এসেছিল এবং পুরো শরীর রক্তাক্ত ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন লাকি।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, স্বামীর মাথায় ব্যান্ডেজ করার জন্য তাকে বেটার লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্যান্ডেজ না করে লাশ নাড়াচাড়া করা যাচ্ছিল না। হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে হাসপাতালে আসেন। এরপর তিনি, তার ছেলে ও আত্মীয়স্বজন লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

লাকি বেগমের ভাষ্য, পথে পুলিশ ও বিজিবি তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে এবং অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। তখন তারা ইসমাইল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে মিথ্যা কথা বললে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০ জুলাই গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর লাশ দাফন করা হয়। পরে ফেসবুক, ইউটিউব ও সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানতে পারি, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী শহীদ হয়েছেন।

জবানবন্দিতে লাকি বেগম রাফাত, রেদোয়ান, রাশেদুল ও মশিউরের নাম উল্লেখ করে বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় এরা জড়িত। এ পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জব্দ তালিকা, জিম্মানামা ও দালিলিক সাক্ষ্যের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত স্বামীর গুলিবিদ্ধ দেহের আলোকচিত্র শনাক্ত করেন লাকি বেগম। জবানবন্দির শেষে তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad