নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসে স্কুলবাসের চাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার শায়নের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার কাছ থেকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা ফৌজদারি মামলা না করার অঙ্গীকারসংবলিত একটি অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, জলসিঁড়ি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।
ওসি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির মরদেহ তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের বাবা ময়নাতদন্তের জন্য অস্বীকৃতি জানান।
এরপর বুধবার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি শেয়ার করে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। সেখানে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার কাছ থেকে মামলা না করার অঙ্গীকার নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পোস্টে শেয়ার করা নথিতে শিশুটির বাবা সাজু আহম্মেদের স্বাক্ষর রয়েছে। নথিটির তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬।
অনাপত্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুলের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসে দুর্ঘটনায় তার ছেলে শাহরিয়ার শায়নের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা ফৌজদারি মামলার আশ্রয় নেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়িতে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী না করার বিষয়টিও নথিতে লেখা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর সন্তানের মরদেহ হস্তান্তরের আগে ওই অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে সাজু আহম্মেদকে চাপ দেওয়া হয়। এ সময় স্কুলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খান এবং অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফেরদৌস হাসান টিটোর মধ্যে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের ঘটনা স্কুলে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সকালে সুস্থ অবস্থায় সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর পর প্রথমে সাজু আহম্মেদকে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়। তখন তাকে বলা হয়েছিল, তার সন্তান সামান্য আহত হয়েছে এবং স্কুলে এসে তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে স্কুলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন শিশুটির মরদেহ বাসের নিচে পড়ে ছিল।
এরপর মরদেহ দেখতে দেওয়ার আগে শিশুটির বাবাকে অধ্যক্ষের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে আর্থিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর না করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না এবং ময়নাতদন্ত করানো হবে—এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়।


