নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্য শুনতে আদালতে হাজির হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার ওই মামলায় সাক্ষ্য দিতে জেরুজালেম জেলা আদালতে হাজির হন দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আভিচাই ম্যান্ডেলব্লিট। তিনিই অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। তার সাক্ষ্য শুনতেই উপস্থিত হন নেতানিয়াহু।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, আদালতে ম্যান্ডেলব্লিটকে জেরা করছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আইনজীবী অমিত হাদাদ।
জেরার সময় ম্যান্ডেলব্লিট বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত চলাকালে একপর্যায়ে তার মনে হয়েছিল, পুলিশ তার অগোচরে কাজ করছে। সে সময় তিনি এ বিষয়ে নিজের সন্দেহের কথাও জানিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্তের সময় পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপের অনুমোদন তিনি দিয়েছিলেন কি না, তা জানতে চান আইনজীবী অমিত হাদাদ।
জবাবে ম্যান্ডেলব্লিট বলেন, তিনি পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপের অনুমোদন দেননি। তবে আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপের জন্য তার অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনও ছিল না। তবুও তিনি তদন্তের সব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, নেতানিয়াহুর তৎকালীন চিফ অব স্টাফ নাতান এশেলের ফোনে গোপনে আড়ি পাতার ব্যবস্থা করায় তিনি পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। পরে তার নির্দেশে ওই নজরদারি বন্ধ করা হয়।
ম্যান্ডেলব্লিট বলেন, ‘তারা (পুলিশ তদন্তকারীরা) আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন, যা শুনে আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ হই। আমি বলেছিলাম, এটি বন্ধ করতে হবে। পরে সেটিই করা হয়।’
ফোনে আড়ি পাতার ঘটনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অবিলম্বে এটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। বিষয়টি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমি বলেছিলাম, ভবিষ্যতে এ ধরনের কিছু করতে হলে শুরুতেই আমার কাছে আসতে হবে।’
এর আগে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছিলেন, তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ম্যান্ডেলব্লিট তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেছিলেন। তবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর আইনজীবীরা ১১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ম্যান্ডেলব্লিটের সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর আসন্ন নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


