গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন খনিজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার বিকাল সোয়া ৬টার দিকে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভা ও আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে শোষণ করেছে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই গণঅভ্যুত্থান না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতো না।
বিএনপির আন্দোলনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যের পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তা টিকিয়ে রাখাও জরুরি। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সড়ক অবরোধ, বিশৃঙ্খলা ও মবের মতো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গঠনে মনোযোগ দিতে হবে। স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আন্দোলনের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিকসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবদুল বারী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এম এ মুহিত।
এছাড়া বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


