কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে জমে উঠেছে শীতকালীন সবজির চারা বিক্রির মৌসুম। চলতি মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বেচে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্য ধরেছেন স্থানীয় চাষিরা।
ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে চারা উৎপাদনকারীদের ব্যস্ততা। ভোর থেকে বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির কাজ চলে দিনভর। পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাঁবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বাড়ছে বিভিন্ন জাতের চারা।
সমেশপুরে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে।
চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস জানান, ১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায় এবং গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার এই কাজের সঙ্গে জড়িত।
আরেক উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন চাষিরা।
তবে সম্ভাবনাময় এ খাতে সেচ সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, মানসম্মত বীজ, সার সংগ্রহ ও মাটি পরীক্ষার সুযোগের অভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা। চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ধানের পর চারা উৎপাদনই তাদের আয়ের বড় উৎস হলেও কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট মিলছে না।
কৃষকদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার জানান, চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো তিনি শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।


