‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আংশিক অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী অনুপস্থিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ নতুন করে ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ আলম শাহীন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করার অপরাধে যদি আমার ফাঁসি হয়, আমরা আওয়ামী লীগই করব। জেল কত খাটাবেন? আমরা রাজনীতি করছি, পার্টি করছি, কিন্তু কোনো হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
গত ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে পলাতক শেখ হাসিনাসহ ২৬১ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ১১ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি চলছিল। পরে দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে বদলি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই মিটিংয়ে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


