সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সোমবার দুই দেশের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পরবর্তী যেকোনো আলোচনায় ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের রোড ম্যাপের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওই প্রস্তাব দেন।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এর আগে দুইবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এপ্রিলে ও জুনে হওয়া ওই দুই চুক্তিই অল্প সময়ের মধ্যে ভেঙে যায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া শেষে আরও কিছুদিন নিউইয়র্কে অবস্থান করা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, যুদ্ধবিরতির সবশেষ প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে, তারা কোনো সমঝোতা বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধান উপস্থাপন করেছি।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে দেশটিতে ও লেবাননে সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ, ইরানের জব্দ করা কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে।
এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে। বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ চালুর পাশাপাশি দুই পক্ষ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবিও আলোচনায় থাকবে।
তবে শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি ছিল, কঠোর অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছে।
পরদিন রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা আরও আলোচনায় অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে আরাগচি রোববার বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে জানায়নি। ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো পরিষ্কার। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর যেকোনো পদক্ষেপ এই শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে। এই অচলাবস্থার একমাত্র সমাধান হতে পারে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমঝোতা।’


