বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে/ দিল্লিতে ৬ সপ্তাহের জন্য সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ ঘোষণা

দিল্লিতে ৬ সপ্তাহের জন্য সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ ঘোষণা
বায়ুদূষণ সত্ত্বেও অনেক বাসিন্দা তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শীতকালীন পরিবেশগত বিপর্যয় সামলাতে আগামী ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় সপ্তাহের জন্য মেগাসিটি দিল্লিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রায় ৩ কোটি মানুষের মেগাসিটি দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর তালিকায় নিয়মিতই স্থান পায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিকর নির্গমন, ভারী যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের উড়ন্ত ধুলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ফসলের খড় পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শহরটির বাতাস তীব্র দূষণের কবলে পড়ে।

দিল্লি প্রশাসনের শীতকালীন বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্মাণকাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এ ছাড়া নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে যানবাহন চলাচলের ওপরও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ জারির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দর সিং সিরসা বলেন, ‘শীতকালে যেন শহরের বাতাস কোনোভাবেই অতিমাত্রায় বিপজ্জনক কিংবা বিষাক্ত মাত্রায় পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য আগাম ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এসব কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, গত বছরের চেয়ে এবার পরিবেশ পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে এবং আগামী বছরগুলোতে শহরের বাতাসের মানে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে।’

সাধারণত শীতের মাসগুলোতে ঠাণ্ডা বাতাসের ভারী আস্তরণ ক্ষতিকর দূষিত উপাদানগুলোকে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে, যার ফলে দিল্লিতে ওই সময় বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এ ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল পরিবেশ ও বায়ুদূষণ।

শীতকালে দিল্লির বাতাসে ক্যানসার সৃষ্টিকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি অনেক সময় প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত দৈনিক সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। এর আগে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহন কিছুটা সীমিত করা কিংবা বাতাসে কৃত্রিমভাবে পানি ছিটানোর মতো সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী সিরসা জানান, ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ ও ধোঁয়ার নির্গমন কমাতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসে কাজের সময়ে ভিন্নতা ও নতুন সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং নিরুৎসাহিত করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পার্কিং ফি বাড়িয়ে একলাফে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad