ঝিনাইদহে গত ৯ মাসে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৮ হাজার মানুষ। আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু-কিশোর। সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্করোধী র্যাবিস ভ্যাকসিনের সীমিত সরবরাহ থাকায় অসচ্ছল ও দুস্থ রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১৮ হাজার ৩১১ জন মানুষ কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, বেজি ও শিয়ালের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল কুকুরের আক্রমণে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৭ জন। আর শিয়াল, বেজি ও বিড়ালসহ অন্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার ১২ হাজার ৩১১ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, গত ৯ মাসে এসব প্রাণীর আক্রমণে জেলায় কেউ মারা যায়নি। আক্রান্তদের সকলেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ করায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত তিন মাসে হাসপাতালটি থেকে মোট ৮ হাজার ২৬৯ জন র্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২ হাজার ৬৪২ জন, আগস্টে ৩ হাজার ২৩৩ এবং সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৯৪ জন টিকা নেন। ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি শিশু ও কিশোর। আক্রান্তদের অধিকাংশই বিড়ালের আঁচড় ও কামড়ে আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে টিকা না পেয়ে ফার্মেসি থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান জানান, র্যাবিস ভ্যাকসিন কেনার জন্য পৃথক বিশেষ কোনো বরাদ্দ থাকে না। হাসপাতালের নিয়মিত বাজেট ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এটি কেনা হয়, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।


