ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগীয় প্রতিবেদনে অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কেন্দ্রীয় দৈনিক প্রতিবেদনে সারা দেশে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হলেও খুলনা বিভাগীয় প্রতিবেদনে শুধুমাত্র খুলনা বিভাগেই পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের শনিবারের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে খুলনা বিভাগে কোনো মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের শনিবারের তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলার হাসপাতালগুলোতে চারজন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে খুলনা বিভাগে নতুন করে ২৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত পাঁচজনের তথ্যই সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর তালিকা তৈরি করা হয় এবং পরে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং খুলনা আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এস এম শাহরিয়ার বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তথ্য পাঠানোর পর তা যাচাই-বাছাই করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, তথ্য এন্ট্রির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তারাও নিশ্চিত করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এবং বিভাগীয় প্রতিবেদনে একই সময়ের রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্যে এই পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) আবু আহম্মাদ আল মামুন টাইমসকে জানান, তথ্যে ভুল থাকার ব্যাপারটি নিয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।


