রাজধানীর সুত্রাপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুনের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. সিদ্দিক (৫৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়াল।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুর শ্যামবাজার চামাকটুলী এলাকার একটি বাসায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে আগুনের এই ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন, সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগিনা আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও ভাগ্নি তানিয়া আক্তর (২০)।
দগ্ধ আরিফুর রহমার ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শ্যামবাজার চামাকটুলীতে তাদের (দগ্ধদের) পৈতৃক সম্পত্তি। তারা সবাই পাশাপাশি বাসায় থাকেন। ইমন সৌদি আরব প্রবাসী। রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করেন। ধলু ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী আর তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্সের শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে বাসার সামনে জমানো ময়লা পানি পরিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে তানিয়ার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরব প্রবাসী ভাই ইমনকে জানালে তিনি শুক্রবারই দেশে চলে আসেন। এর পর শনিবার বিকালে ইমন ‘আমিও মরবো, তোদেরকেও মারবো’ বলে নিজের ও উপস্থিত স্বজনদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই তাদের সবার শরীরে আগুন ধরে যায়।
ঘটনার পরপরই তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন জানান, রাজিবের ১৫ শতাংশ, আরিফের ৮ শতাংশ ও তানিয়ার ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।


