সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় চার আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ওই ছাত্রী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলাটি করেন। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন শাহজাদপুর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়া এলাকার মো. তারেক রানা (৩৬), মো. হোসেন আলী (৪৮) ও মো. চয়ন ইসলাম (২৭)। আরেক আসামি মো. সামাদ ওরফে সাহাবউদ্দিন পলাতক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী ডাকবাংলাপাড়ার পশ্চিম পাশে একটি বাসার তৃতীয় তলায় মেসে থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার এক পুরুষ বন্ধু ব্যক্তিগত কাজে ওই মেসে আসেন এবং কিছুক্ষণ অবস্থানের পর চলে যান।
এজাহারে বলা হয়, মেসের পাশের একটি বিকাশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ওই যুবকের আসা-যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান অভিযুক্তরা। পরে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিকাশ অফিসের লোকজন ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখান এবং তা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওইদিন বিকালের মধ্যে টাকা না দিলে ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডাকবাংলাপাড়ায় বিপ্লব কুমার নামে এক ব্যক্তির চারতলা ভবনের বিকাশ অফিসে তাকে আবারও ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার কাছে সোনার চেইন দাবি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অন্যদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে মো. তারেক রানা ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরেন এবং জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় নিজেকে ছাড়িয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে মো. সামাদ তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন দেওয়ার চেষ্টা করলে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে আসার সময়ও তাকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় গিয়ে মামলা করেন তিনি।
ওসি সাইফুল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


